প্রেসক্রিপশন ও RX / ড. মোহাম্মদ আমীন

প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রের সূচনায় চিকিৎসকগণ সাধারণ ‘Rx’ লিখে থাকেন। কেন এটি লেখা হয় এ নিয়ে কয়েকটি মতবাদ প্রচলিত আছে। কয়েকটি মতবাদ নিচে দেওয়া হলো। প্রথম মতবাদটি জুপিটার বা বৃহস্পতি মতবাদ নামে পরিচিত। এই মতবাদিগণের মতে, Rx হচ্ছে বৃহস্পতি বা জুপিটার (jupitar) গ্রহের জ্যোর্তিবৈদ্যিক(Astrological) চিহ্ন।এই গ্রহটি রোমান দেবতাদের রাজা এবং সবচেয়ে ক্ষমতাবান। তাই প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম লেখার পূর্বে Rx চিহ্নটি লেখা হয়। যাতে প্রেসক্রিপশনে বিবৃত পথ্যের ওপর তথা রোগীর উপশমে দেবরাজ জুপিটার শুভদৃষ্টি দেন। কথিত হয়, Rx চিহ্ন থাকলে ওই প্রেসক্রিপশন অতি কার্যকর হয়। দ্বিতীয় মতবাদ, অনেকে বলেন, প্রাচীন একটি ল্যাটিন শব্দ থেকে RX প্রতীকটি এসেছে। এই শব্দটি হলো Recipe, যার অর্থ, ‘আপনি নিন বা আপনি গ্রহণ করুন’। প্রাচীন মিশরীয়দের মধ্যে ‘উটচাট’ বা ‘হোরাসের চোখ’ নামে এক ধরনের কবচের প্রচলন ছিল। হোরাস ছিলেন স্বাস্থ্য দেবতা। ‘হোরাসের চোখ’ নামে যে কবচ প্রচলিত ছিল তা অনেক রোগ প্রতিরোধ করত বলে বিশ্বাস করা হতো। এ কবচের প্রাথমিক আকৃতি অনেকটা হেরাসের চোখের মতো ছিল। তবে এটা নানান জিনিস দিয়ে তৈরি করা হতো। এভাবে এট…

তৎসম চেনার কৌশল / ড. মোহাম্মদ আমীন

তৎসম শব্দ চেনার কৌশল
১। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুযায়ী ‘ঈ ঊ ঋ এবং এ তিনটি বর্ণের কারচিহ্ন ‘ী, ‍ূ, ‍ৃ’- যুক্ত সব শব্দই তৎসম শব্দ।
২। মূর্ধন্য-ণ যুক্ত সব শব্দ তৎসম।
৩। যেসব শব্দের পূর্বে প্র, পরা, অপ, সম, অব, অনু, নির(নিঃ), দুর(দুঃ), উৎ, অধি, পরি, প্রতি, উপ, অভি, অতি প্রভৃতি উপসর্গ যুক্ত থাকে সেগুলো তৎসম শব্দ হবে।
৪। ক্ত্র, ক্ম, ক্ষ, ক্ষ্ণ, ক্ষ্য, ক্ষ্ম, ক্ষ্ম্য, গ্ধ, গ্ন্য, গ্ম, ঘ্ন, ঙ্ক্ষ, ঙ্ম, চ্ছ্ব, চ্ছ্র, জ্ঝ, জ্ঞ, ঞ্ছ, ঢ্র, ত্ত্ব, ত্ম্য, ত্র্য, দ্ব্য, দ্ম, ধ্ন, ধ্ম, ন্ত্য, ন্ত্ব, ন্ত্র, ন্ত্র্য, ন্দ্ব, ন্ধ্য, ন্ধ্র, ন্ন্য, ল্ম, শ্ছ, শ্ম, ষ্ক্র, ষ্ট্য, ষ্ট্র, ষ্ব, ষ্ম, স্ত্য, স্থ্য, হ্ন্য, হ্ম, হ্ল ইত্যাদি যুক্তবর্ণ কেবল তৎসম শব্দে দেখা যায়। অতএব এমন যুক্তবর্ণ-যুক্ত শব্দ তৎসম।
৫। বিসর্গযুক্ত শব্দগুলো এবং বিসর্গসন্ধিসাধিত শব্দগুলো তৎসম শব্দ।
৬। বহুবচনবাচক গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ, আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি প্রভৃতি থাকলে শব্দ তৎসম হয়।
৭। সমাসবদ্ধ পদের একটি অংশ তৎসম জানা থাকলে অপর অংশটি এবং সমস্তপদটিও তৎসম হয়। যেমন চন্দ্রমুখ শব্দে চন্দ্র অংশটি তৎসম জানা থাকলে বলা যায় ‘মুখ’ এবং ‘চন্দ্রমুখ’ শব্দদ্বয়ও তৎসম।
৮। উপমান কর্মধারয়, উপমিত কর্মধারয় এবং রূপক কর্মধারয় সমাস দ্বারা সাধিত শব্দগুলো সাধারণত তৎসম হয়।
৯। অব্যয়ীভাব এবং প্রাদি সমাস দ্বারা সাধিত পদগুলো সাধারণত তৎসম হয়। তবে ব্যতিক্রমও আছে।
১০। শব্দের শেষে -তব্য এবং -অনীয় থাকলে সেসব শব্দ তৎসম হয়। যেমন : কর্তব্য, দ্রষ্টব্য, ভবিতব্য, করণীয়, দর্শনীয় প্রভৃতি তৎসম।
১১। শব্দের শেষে তা, ত্ব, তর, তম, বান, মান, এয়, র্য প্রভৃতি থাকলে সাধারণত শব্দগুলো তৎসম হয়।
১২। অব্যয়পদের শেষে ত থাকলে তা সাধারণ তৎসম হয়। যেমন : প্রথমত, অন্তত, জ্ঞানত। তবে এ নিয়মের আওতায় পড়ে না, এমন বহু তৎসম শব্দ বাংলায় ব্যবহৃত হয়। সেসব শব্দগুলো আয়ত্তে আনার জন্য চর্চা প্রয়োজন।
সহজে অতৎসম শব্দ চেনার উপায়
১। ষ যুক্ত অধিকাংশ শব্দ তৎসম, কিন্তু সকল শব্দ তৎসম নয়। যেমন পোষা, ষোলো, বোষ্টম প্রভৃতি তৎসম নয়।
২। চন্দ্রবিন্দুযুক্ত কোন শব্দই তৎসম নয়।

Comments