Skip to main content
ঢালাওভাবে / ড. মোহাম্মদ আমীন
ঢালাও /ঢালাওভাবে
‘ঢালাও’ বা ‘ঢালাওভাবে’ শব্দের
আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ বাছবিচার না-করে কোনও কিছু করা, বিস্তৃত,
প্রশস্ত, নির্বিশেষে, বিবেচনাবোধহীন, নির্বিচারে, যথেচ্ছা প্রভৃতি। ‘ঢালা’
ক্রিয়া থেকে থেকে ‘ঢালাও’ বা ‘ঢালাওভাবে’ শব্দের উৎপত্তি। ‘ঢালা’ ক্রিয়ার
অর্থ পাত্র বা সংরক্ষণস্থান হতে কোনও কিছু উপড়ে দেওয়া, ছিটিয়ে দেওয়া,
বিছিয়ে দেওয়া, ঢেলে দেওয়া বা ছুড়ে দেওয়া। গিন্নি শুধু রান্নার পাত্রে তৈল
ঢালেন না, মাঝে মাঝে রেগে গেলে তৈলপাত্র উপড়ে সারা মেঝে ঢেলে দিতেও দেখা
যায়। শুধু তাই নয়, কখনও কখনও নিজের
ব্যবহারের প্রিয় রূপ-সজ্জার জিনিসপত্রও ঢেলে দেন। প্রথমটি আবেগের দ্বিতীয়টি
রাগের। দুটোই কিন্তু ঢালা। মানুষ যখন কোনও পাত্র হতে কিছু ঢালেন তখন
অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশি ঢালুক বা কম ঢালুক কোনটি ঢালবেন বা কোনটি ঢালবেন না এ
নিয়ে কোনও বাছবিচার করেন না। অবশ্য ঢালার আগে তা যথার্থভাবে করাও সম্ভব
নয়। তাই পাকা ফল পাড়তে গেলে কাচা ফলও পড়ে যায়। ঢালার পর প্রয়োজন হলে
বাছবিছার শুরু করেন। ব্যবসায়ী বা কৃষক ফসলাদি বাছবিছার করে বিভক্ত করার
জন্য আগে ঢালেন, তারপর শুরু করেন বাছাই -- ভালো-মন্দ, উৎকৃষ্ট-মাঝারি
প্রভৃতি শ্রেণিতে বিভক্তকরণ। শস্যদানা থেকে ছিটা - বাছা গ্রামবাংলার একটি
প্রাচীন রেওয়াজ। তবে ছিটা-বাছার আগে শস্যকে ঢেলে নিতে হয়। ঢালার সময় কোনও
বাছবিচার করা হয় না, ভালো-মন্দ নির্বিশেষে পুরোটাই ঢেলে দেওয়া হয়। ঢালার পর
শুরু হয় বাছবিচার বা ছিটা-বাছার কাজ। রাগের বশে কেউ যখন কোনও বস্তু ঢেলে
দেন তখন কোনও বাছবিচার থাকে না। ঢালার পর রাগ কমে গেলে শুরু হয় বোধ, এটি
চেতনা বা বাছবিচারের অনুভূতি। তখন আফসোস হয়, ঢেলে দেওয়া বস্তু হতে যতটুকু
সম্ভব উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ অনেক সময় ঢালাওভাবে গ্রেফতার করেন।
তারপর শুরু করেন বাছবিচার। ঢালার কাজটা বাছবিচারহীনভাবে করা হয়। এ
বাছবিচারহীন ‘ঢালা’ থেকে বাংলা বাগভঙ্গি ‘ঢালাও’ বা ‘ঢালাওভাবে’ শব্দের
উৎপত্তি। ঢালার আগে সাজানো যায় না, ঢেলে সাজাতে হয়। ঢেলে সাজানো’
বাগ্ভঙ্গির সঙ্গে বিবেচনা করলে ‘ঢালাও’ বা ‘ঢালাওভাবে’ বাগ্ভঙ্গির অর্থ ও
ব্যুৎপত্তি আরও স্পষ্ট হবে।
Comments
Post a Comment