Posts

যত দোষ নন্দঘোষ / ড. মোহাম্মদ আমীন

প্রবাদের নন্দ ঘোষ শ্রীকৃষ্ণের পালক পিতা । হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী যুগ চারটি । যথা - সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি । হিন্দু ধর্মের মিথ অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে যখন অধর্ম বেড়ে গিয়েছিল, তখন অধার্মিকদের বিনাশ ও ধর্ম রক্ষার জন্য অবতাররূপে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয় । শ্রীকৃষ্ণের মামা কংশ দৈববাণীতে জানতে পারেন তার বোন দেবকীর অষ্টম গর্ভজাত সন্তান তার মৃত্যুর কারণ হবে। তখন কংস শ্রীকৃষ্ণের বাবা-মা যথাক্রমে বাসুদেব ও দেবকীকে কারাগারে বন্দি করে রাখেন। দেবকীর অনেক সন্তান জন্ম হয়, কংস দেবকীর সাত সন্তানকে হত্যা করেন । অষ্টম সন্তান শ্রীকৃষ্ণ যখন জন্ম গ্রহণ করে তখন বাসুদেব তাকে গোকুলে নন্দ ঘোষের গৃহে রেখে আসে । পৌরাণিক কাহিনিমতে, প্রচণ্ড ঝড়ের রাতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন । কারাগৃহের তালা অলৌকিকভাবে খুলে যায়, প্রহরী গভীর ঘুমে আছন্ন হয়ে পড়ে। বাকি অংশ গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন, মাতৃভাষা জ্ঞান, প্রাত্যহিক প্রয়োজন, শুদ্ধ বানান চর্চা এবং বিসিএস-সহ যে-কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক : শুবাচ লিংক শুবাচ লিংক /২ শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১ শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২ শুদ্ধ বানান চর্চা লি...

আনারস / ড. মোহাম্মদ আমীন (সংগ্রহে ড. রচনা চয়ন)।

আন + রস = আনারস।‘রস’ শব্দের প্রভাবে পর্তুগিজ শব্দ ‘আনারস’। [ বিমিশ্রণ] আহ্! কী রস, আনারসে। ওরা বলেন, ‘আর্মচেয়ার’ আমরা বলি ‘আরাম-চেয়ার’, আর্ম রেখে এত আরাম করে বসার বস্তুটির এমন কার্যকর নাম বাঙালি ছাড়া আর কে দিতে পারে অত কারুকার্যময় দ্যোতনায়। ‘মার্তবান দ্বীপের কলা’; অত লম্বা করে বলার প্রয়োজেন কী! তাই আমরা বলি ; মর্তবান কলা।   স্কুলে আমি ভুল করে লিখেছি কয়েক বার বর্তমান কলা।রমণী স্যার খুশি হতে পারেননি। কী লজ্জা! ‘মার্তবান দ্বীপের কলা’ যদি মর্তবান হয় তো, মর্তবান, বর্তমান হলে দোষ কী?   দোষ আছে। এ কলা শিল্পকলা নয়, মর্তবান কলা। বর্তমান কলার কেবল একটি অন্য নাম হতে পারে; সেটি-ছলাকলা।   শৃ+ উল = শিয়াল; এমন হলে কেউ দোষ দিতেন না, কাউকে; তবু এমন হয়নি। হয়েছে- শৃ+ ঊল (উলচ্) = শার্দূল; এটি কিন্তু শৃগালের উল নয়; সিংহ, রীতিমতো পশুরাজের হুঙ্কার।মহাজন শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘মহৎ যে জন’’, কিন্তু প্রচলিত অর্থ ‘সুদে ঋন-প্রদানকারী’।  আগেকার মহৎ ব্যক্তিরা সুদে অর্থ ঋণ দিতেন না কিন্তু তারা যে জ্ঞান বা মহত্ততা বিতরন করে সুদের মতো কিছু নিতেন - এর প্রমাণ মহাজন শব্দের অর্থ-পরিবর্তনে নিহ...

প্রেক্ষিত/পরিপ্রেক্ষিত

পরিপ্রেক্ষিত ও প্রেক্ষিত শব্দের তফাৎ আকাশ-পাতাল। তবু অনেকে ‘পরিপ্রেক্ষিত’ বুঝাতে ‘প্রেক্ষিত’ শব্দটি ব্যবহার করেন। প্রেক্ষিত শব্দ হতে প্রেক্ষণ শব্দের উদ্ভব। এর অর্থ দৃষ্টি। প্রেক্ষিত হচ্ছে প্রেক্ষণ শব্দের বিশেষণ। এর অর্থ যা দর্শন করা হয়েছে। সুতরাং Perspective/ Background শব্দের অর্থ বুঝাতে প্রেক্ষিত লেখা চরম অজ্ঞতা। এ অর্থে লিখুন পরিপ্রেক্ষিত।

কর্মকর্তা বনাম কর্মকর্তৃবৃন্দ / ড. মোহাম্মদ আমীন

কমকর্তা কিন্তু কর্মকর্তৃবৃন্দ/কর্মকর্তাগণ ********************************** তৎসম তৃচ-প্রত্যয়ান্ত একবচন-বাচক পদের শেষে ‘তা’ বা ‘র্তা’ থাকলে বহুবচনে যথাক্রমে ‘তৃ’ ও ‘র্তৃ’ রূপ ধারণ করে। যেমন : কর্তা : কর্তৃবৃন্দ, কর্তৃগণ, কর্তৃমণ্ডলী প্রভৃতি। কর্মকর্তা : কর্মকর্তৃবৃন্দ, কর্মকর্তৃগণ, কর্মককর্তৃমণ্ডলী প্রভৃতি। দাতা : দাতৃবৃন্দ, দাতৃগণ, দাতৃমণ্ডলী প্রভৃতি। মাতা : মাতৃবৃন্দ, মাতৃগণ, মাতৃমণ্ডলী প্রভৃতি। পিতা : পিতৃবৃন্দ, পিতৃগণ, পিতৃমণ্ডলী প্রভৃতি। ভ্রাতা : ভ্রাতৃবৃন্দ, ভ্রাতৃগণ, ভ্রাতৃমণ্ডলী প্রভৃতি। নেতা : নেতৃবৃন্দ, নেতৃগণ, নেতৃমণ্ডলী প্রভৃতি। শ্রোতা : শ্রোতৃবৃন্দ, শ্রোতৃগণ, শ্রোতৃমণ্ডলী প্রভৃতি। ******************************************************  সূত্র : ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা বানান ও শব্দচয়ন, দাপ্তরিক প্রমিত বাংলা বানান।

তা/ র্তৃ-যুক্ত শব্দের আচরণ

কয়েকটি ব্যাতিক্রান্ত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে তৎসম তৃচ-প্রত্যয়ান্ত বা অন্তে ‘তা’ বা ‘র্তা’ যুক্ত কোনো শব্দের শেষে কোনো চিহ্ন/বর্ণ কিংবা শব্দ/শব্দাংশ যুক্ত হলে ওই ‘তা’ বা ‘র্তা’ পরিবর্তিত হয়ে যথাক্রমে ‘তৃ’ ও ‘র্তৃ’ রূপ ধারণ করে। যেমন : ১. কর্তা : কর্তৃবৃন্দ, কর্তৃগণ, কর্তৃমণ্ডলী, কর্তৃপক্ষ, কর্তৃভবন, কর্তৃরূপ, কর্তৃবিয়োগ, কর্তৃহীন, কর্তৃতর্পণ, কর্তৃবৎ, কর্তৃস্থানীয়, কর্তৃভক্তি, কর্তৃহন্তা, কর্তৃকুল প্রভৃতি। ২. কর্মকর্তা : কর্মকর্তৃবৃন্দ, কর্মকর্তৃগণ, কর্মকর্তৃবৎ, কর্মকর্তৃভবন, কর্মকর্তৃমণ্ডলী, কর্মকর্তৃতুল্য, কর্মকর্তৃপরিষদ, কর্মকর্তৃসংঘ, কর্মকর্তৃহীন, কর্মকর্তৃবিয়োগ প্রভৃতি। ৩. দাতা : দাতৃবৃন্দ, দাতৃগণ, দাতৃমণ্ডলী, দাতৃভক্তি, দাতৃমৃত্যু, দাতৃবিয়োগ, দাতৃহীন, দাতৃবৎ, দাতৃবন্দনা, দাতৃসদন, দাতৃসংঘ, দাতৃকুল প্রভৃতি। ৪. মাতা : মাতৃস্নেহ, মাতৃভাষা, মাতৃদুগ্ধ, মাতৃভক্তি, মাতৃকুল, মাতৃত্ব, মাতৃস্তন্য, মাতৃকল্যাণ, মাতৃবৎ, মাতৃবন্দনা, মাতৃভূমি, মাতৃমৃত্যু, মাতৃবিয়োগ, মাতৃহীন প্রভৃতি। ৫. পিতা : পিতৃব্য, পিতৃপুরুষ, পিতৃগৃহ, পিতৃঋণ, পিতৃতর্পণ, পিতৃধর্ম, পিতৃসত...

ইদ বনাম ঈদ / ড. মোহাম্মদ আমীন

ইদ বনাম ঈদ ======= ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (২০১৬)’ ও ‘বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৫)’ অনুযায়ী عيد (Eid) শব্দের প্রমিত ও সংগততর বাংলা বানান ‘ইদ’। প্রমিত বানান রীতি অনুযায়ী বিদেশি শব্দে ‘ঈ’ বা ‘দীর্ঘ ঈ-কার’ ব্যবহৃত হয় না। عيد (Eid) বিদেশি শব্দ। তাই প্রমিত বানানরীতি অনুসারে শব্দটির প্রমিত ও সংগততর বাংলা বানান ‘ইদ’, ‘ঈদ’ নয়। শব্দটির বানানে ‘ঈ’ বা ‘ই’ যা-ই দেওয়া হোক না কেন; উচ্চারণের, সম্মানের বা গাম্ভীর্যের কোনো পরিবর্তন হবে না, কিন্তু ‘ই’ দিলে প্রমিত বানানরীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমাদের প্রিয় মাতৃভাষায় আদর্শমান ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। যা ভাষাকে করবে আরও সর্বজনীন, বোধগম্য, অভিন্ন ও প্রমিত। ভাষা বহমান নদীর মতো। প্রত্যেক ভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয় পরিক্রমা রয়েছে। প্রাচীনত্বের অজুহাতে ভাষার স্বকীয়তা এবং ভাষানদীর সাবলীল প্রবাহে বাধা দিয়ে ঐকমত্য সৃষ্টিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা সমীচীন বলে মনে হয় না। অনেকে বলেন, 'ইদ' বানান এখনও ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়নি। সম্মানিত শুবাচি জনাব Khurshed Ahmed এর ভাষায় বলা যায় : “আপনি-আমি শুরু করলেই সংগততর 'ইদ' বানানটি প্র...

জিপিএ ফাইভ / মিনহা সিদ্দিকা

মাছরাঙা টিভিতে ‘জিপিএ ৫-প্রাপ্ত শিক্ষার্থী’দের নিয়ে ২৯ মে, ২০১৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রশ্নকারী সাংবাদিকের অজ্ঞতা। ----------------------------------------------------------------------------- ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে আমি সাতবাড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসপি পাশ করেছি। এখন কলেজে ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায়। গত ২৯ মে, ২০১৬ তারিখে মাছরাঙা টিভিতে জিপিএ ৫-প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের ভুল উত্তর শুনে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রশ্নকারী ওই সাংবাদিক কত ভুল করেছেন এবং কী অজ্ঞতার সঙ্গে প্রশ্ন করেছেন সেদিকে কারও নজর পড়েনি। ভুল প্রশ্নের ঠিক উত্তর দেওয়া যায় না। দেখুন প্রশ্নকারী সাংবাদিক কত অজ্ঞতার সঙ্গে প্রশ্ন করেছেন : সাংবাদিকের একটি প্রশ্ন : “শহিদ মিনার কোথায়?” কেউ যদি আমাকে এ প্রশ্ন করেন, আমি বলব : “চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়ার বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে।” কারণ, আমার ওই স্কুলের মাঠেও একটি শহিদ মিনার আছে। তবে কেউ যদি প্রশ্ন করেন : “বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার কোথায়?” তখন বলব : “ঢাকা শহরে, ঢাকা ম্যাডিক্যাল কলেজের সন্নিকটে।” আরও দুটি ...